গত মাস কয়েক ধরেই বাংলাদেশে রাসেল'স ভাইপার বা চন্দ্রবোড়া সাপের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে রাসেল'স ভাইপার সাপ মনে করে আতঙ্কে সব ধরনের সাপ পিটিয়ে মারা হচ্ছে। বাংলাদেশে রাসেল'স ভাইপার সাপ চন্দ্রবোড়া বা উলুবোড়া সাপ নামে পরিচিত।
এই সাপের হঠাৎ প্রাদুর্ভাবে ছড়ানো হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের গুজবও। তবে এটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বেশি গুজব ছড়ানো হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতাই শিবগঞ্জ উপজেলায় নির্বিচারে পিটিয়ে মারা হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির সাপ, যার বেশির ভাগ সাপ নির্বিষ।
স্নেক রেসকিউ টিম বাংলাদেশ এর শিক্ষানবিশ রেসকিউয়ার, সাংবাদিক জিএম মিজান জানান, গত সাত দিনে শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন যায়গায় প্রায় ৭০ থেকে ৮০ টি সাপ মারা হয়েছে।
বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষন সার্কেল রাজশাহী এর পরিদর্রশক জাহাংগীর কবির বলেন, বাংলাদেশে ৮৫ ভাগের বেশি সাপেরই বিষ নেই। এমনকি রাসেলস ভাইপার বা চন্দ্রবোড়া সাপ বিষধর সাপের তালিকায় নয় নম্বরে রয়েছে। আর এখন আতঙ্কিত হয়ে মানুষ যেসব সাপগুলো মারছে তার বেশিরভাগই নির্বিষ, তাছাড়া সাপ জীববৈচিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্যই অন্যান্য প্রাণীর মতই সাপও গুরুত্বপূর্ণ।
স্নেক রেসকিউ এন্ড কনজারভেশন সেন্টার এর বগুড়া জোনের সাপ উদ্ধারকারী তৌফিক হাসান হিমুর সাথে বলে জানা যায়, রাসেলস' ভাইপার আতঙ্কে লোকজন না জেনে-বুঝে নির্বিঘ্নে নির্বিষ প্রকৃতির উপকারী সাপগুলো মেরে ফেলছে। যা বণ্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনের (২০১২) অনুযায়ী অপরাধ।
তিনি আরও বলেন, এভাবে প্রতিনিয়ত সাপ মেরে ফেলা হলে ভবিষ্যতে প্রকৃতির উপর এবং জীব বৈচিত্র্যের উপর এক ধরনের বিরুপ প্রভাবের সৃষ্টি হবে।
একসময় এই সাপটি বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু ১০ - ১২ বছর আগে আবারো এই সাপের কামড়ে মানুষ মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটে। অর্থাৎ ২০১৩ সাল থেকে এই সাপটি বেশি দেখা যায় বলে জানান সাপ গবেষকরা।
২০২১ সালে আবার দেশের উত্তর- পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় বিশেষ করে পদ্মা তীরবর্তী কয়েকটি জেলা ও চরাঞ্চলে চন্দ্রবোড়া বা রাসেল'স ভাইপার সাপের কামড়ে দুইজন নিহত ও কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে, সে সময় বেশ আলোড়ন তুলেছিল।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: রফিকুল ইসলাম
নির্বাহী সম্পাদক: মো: আব্দু্ল্লাহ্ আল ওয়াদুদ
বার্তা সম্পাদক: মো: রাজন আলী