বগুড়ার শিবগঞ্জের উথলী বাজারে নবান্ন উপলক্ষে মাছের মেলা বসেছে। শত শত বছরের পুরোনো এই মেলার মূল আকর্ষণ বড় মাছ। বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে রবিবার ১লা অগ্রহায়ণ। এ দিন বাঙালিরা নবান্ন উৎসব পালন করে। এ উৎসবকে কেন্দ্র করেই প্রতিবছর উথলীতে বসে মাছের মেলা। নতুন আলু ও নতুন নানা জাতের সবজি দিয়ে মাছের নানা পদ রান্না করে জামাই-মেয়েসহ আত্মীয়-স্বজনকে আপ্যায়ন করা হয়।
রবিবার (১৭ নভেম্বর) সকাল থেকেই বগুড়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতা ও বিক্রেতারা বড় মাছ কেনাবেচার জন্য মেলায় ভিড় জমিয়েছেন। মেলায় এক দিনে কয়েক কোটি টাকার মাছ বিক্রি হবে জানিয়েছে আয়োজকরা।
ইজারাদার সূত্রে জানা যায়, এবারের মেলায় প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার মন মাছ উঠেছে। দুই থেকে শুরু করে ২০ কেজি ওজনের বোয়াল, চিতল, রুই, কাতলা, ব্লাক কার্প, সিলভার কার্প, তেলাপিয়া, পাঙ্গাসসহ হরেক রকমের মাছ বিক্রি হয়।
তবে গত বছরের তুলনায় এবার মাছের দাম কিছুটা বেশি। রুই ও কাতলা ৫৫০ থেকে ৮৫০ টাকা, ব্লাককার্প, ব্রিগেড ও সিলভার কার্প ৩৫০ টাকা থেকে ৭৫০ টাকা দরে মাছ বেচাকেনা হচ্ছে।
এলাকার প্রবীণরা জানায়, একদিনের এ মাছের মেলা প্রায় শত শত বছর ধরে চলে আসছে। সনাতন পঞ্জিকার হিসাব অনুসারে রবিবার পহেলা অগ্রহায়ণ। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মুসলমানরাও নতুন ফসল ঘরে তোলা উপলক্ষ্যে নবান্ন উৎসব পালন করেন। আর নবান্নয় মাছের মেলা বসে। এবারের মেলায়ও ব্যবসায়ীরা বড় বড় হরেক রকমের মাছের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। শুধু মাছ নয়, মেলায় নতুন আলুসহ বিভিন্ন সবজি, মিষ্টান্ন, মাংস, মাটির তৈরি তৈজসপত্র, মুড়ি, মুরকি, চিঁড়া, জিলাপি, গুড়, নারকেল, আচার ঝালসহ নানা খাদ্যদ্রব্য বিক্রি হচ্ছে। মেলাকে কেন্দ্র করে আশপাশের অন্তত ২০ গ্রামে এ উৎসব চলছে। প্রতিটি বাড়িতে মেয়ে-জামাই, নাতি- নাতনি, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনে ভরে গেছে। অনেকের বাড়িতে শীতের বিভিন্ন পুলিপিঠাও তৈরি করা হচ্ছে।
উথলী গ্রামের বাসিন্দা ইকবাল হোসেন বলেন, আমি দাদার কাছ থেকে শুনেছি প্রায় ২০০ শত বছরের পুরোনো এ মেলা। রাত ১২টার পর থেকেই শুরু হলেও ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জমে ওঠে এ মেলা।
নিবারণ প্রামাণিক নামে আরেকজন বলেন, নবান্ন উপলক্ষে এখানে এ মেলা বসে। এদিন আমাদের বাড়িতে আত্মীয়স্বজনদের আগমনে মিলনমেলায় পরিণত হয়। মূলত তাদের জন্যই বড় বড় মাছ কিনতে মেলায় আসছি।
স্থানীয় লোকদের সাথে কথা বলে জানা যায় মেলাকে ঘিরে উথলী, শিবগঞ্জ, আমতলী, রথবাড়ি, ছোট ও বড় নারায়ণপুর, ধোন্দাকোলা, সাদল্যাপুর, বেড়াবালা, আকন্দপাড়া, গরীবপুর, দেবীপুর, আলাদীপুর, ভাগকোলা, জাবারিপুর, গুজিয়া, মেদনীপাড়া, বাকশন, রহবল, মোকামতলা, গণেশপুর, লক্ষ্মীকোলাসহ ২০ গ্রামের ঘরে ঘরে উৎসবের আয়োজন চোখে পরার মতো।
মাছ ব্যবসায়ী ধামাহার গ্রামের আব্দুল বাছেদ বলেন, নাটোরের সিংড়া এলাকা থেকে প্রায় ৫০ মন বিভিন্ন ধরনের মাছ এনে বিক্রি করছেন। প্রতিটি মাছ দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।
জয়পুরহাটের মাছ ব্যবসায়ী ফরিদুল ইসলাম জানান, মেলায় ছোট-বড় মিলে শতাধিক মাছের দোকান বসেছে। প্রত্যেকে পাঁচ থেকে ১০ মন করে মাছ বিক্রি করেছেন।
অপর মাছ ব্যবসায়ী পান্না বলেন, এইবার পাইকারী- খুচরা দুই বাজারেই মাছের দাম ভালো। সকল ব্যবসায়ীরা আশানুরূপ দাম পেয়ে খুশি।