আমির উদ্দীন বাবু পোরশা উপজেলা প্রতিনিধি
পোরশা নওগাঁসাবেক খাদ্যমন্ত্রী ও নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সাধন চন্দ্র মজুমদার ও তার দোসর নজরুল গংদের বিরুদ্ধে ৮২ বিঘা জমি দখলের অভিযোগ করে নওগাঁর পোরশায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। ২০১৪ সালে সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায় ক্ষমতার জোরে সাধন মজুমদারের নির্দেশে তার দোসর পোরশা সদরের মৃত ডাঃ শাহ্ আজিজ চৌধুরীর ছেলে নজরুল ইসলাম শাহ্ গংদের দিয়ে জমির মালিক সাইদ সাহ এর ছেলে আসাদ ওয়ারিশদের বাড়ির খলায় রাখা ৮২বিঘা জমির মাড়াইকৃত ধান জোর করে তুলে নিয়ে যায়। ঐসময় থেকে জমিগুলো নজরুল গং দখলে নিয়ে নেয়। সে সময়ে বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ ও মামলা করেও কোন প্রতিকার পাননি ভুক্তভোগীরা। ৫ আগষ্টে সরকার পরিবর্তনের পর আসাদের পরিবার ঐ জমিগুলো দখলে নেন এবং চলতি মৌসুমে বোরো ধান রোপণ করেন। কিন্তু ওই জমিতে রোপনকৃত ধানে ২৬ মার্চ রাতে কীটনাশক প্রয়োগ করে নজরুল গংরা ধানগুলো মেরে ফেলেছেন বলে অভিযোগ করেন জমির মালিক আসাদের পরিবার। কিন্তু নজরুল গংরা উল্টো জমির প্রকৃত মালিকদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন বলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ভুক্তভোগী পরিবার আসাদ সাহ্ এর নাতি ইসমাইল হোসেন শাহ্ পোরশায় তার নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। এসময় তার চাচা সাঈদ শাহ্, তৈয়ব শাহ্, মোস্তফা শাহ্ ও আব্দুর রশিদ শাহ্ সহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ইসমাইল হোসেন তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, তাদের মালিকানাধীন জমিটি উপজেলার নিতপুর ইউনিয়নের সুহাতী মৌজায়। যার আরএস খতিয়ান নং-৬৫। জেএল নং-২১৩। খতিয়ানে ৩টি দাগে মোট জমি রয়েছে ২৭ একর ৪৯ শতাংশ। আসাদ সাহ্ নামে রেকের্ডভুক্ত জমি। আসাদ সাহ্ তার আপন দাদা। দাদা মৃত্যুর পর তার বাবা ও চাচারা ওয়ারিশান সূত্রে মালিক। প্রতি বছর তারা জমিগুলোর খাজনা দিয়ে থাকেন। দাদার আমল থেকেই ঐ জমিগুলো তারা ভোগ দখল করে আসতেন। কিন্তু স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধন মজুমদার ও তার দোসর নজরুল গংরা তাদের জমিগুলো ২০১৪ সালে জোর করে দখলে নেয়। এমনকি বাড়ির খলায় মাড়াইকৃত ধান জোর করে তুলে নিয়ে যায়। সে সময়ে তারা কোথাও অভিযোগ ও মামলা করেও কোন প্রতিকার পাইনি। এখন তারা জমিগুলো আবারো দখল নিলেও আওয়ামী লীগের ওই দোসররা পুন:রায় জমি দখলের পায়তারা করছে বলেও তিনি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম শাহ্ বলেন, ১৯২১ সালের একটি দলিল মূলে ঐ জমিগুলো ওয়াক্ফ সম্পত্তি। তারা আরএস রেকর্ড সংশোধনের জন্য ২০০৫ সালে আদালতে মামলা করেছেন। তবে এখনও মামলা চলমান রয়েছে বলে তিনি জানান। #