আমির উদ্দিন বাবু পোরশা(নওগাঁ)প্রতিনিধি
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর-পোরশা-সাপাহার) আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী পদে বিএনপির মনোনয়ন পেতে একাধীক নেতার নাম শোনা গেলেও জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রার্থীর নাম ঘোষনা করা হয়েছে। যাচাই-বাচাই চলছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে। তবে মনোনয়ন পেতে ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ও লবিং ছাড়াও মাঠপর্যায়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা এবং গণসংযোগ করে চলছেন বিএনপির ও ইসলামী আন্দোলনের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। আর গণসংযোগে চালিয়ে যাচ্ছেন জামায়াতের মনোনয়ন প্রাপ্ত প্রার্থী। বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানাগেছে, এ আসনে বিএনপি’র সম্ভব্য প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন প্রত্যাশী নিয়ামত উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও তিনবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ ছালেক চৌধুরী। তিনি ছাড়াও একইদল থেকে যারা মনোনয়ন পাওয়ার জন্য চেষ্ঠা করবেন তারা হলেন- নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও ২০১৮ সালে সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রাপ্ত মোস্তাফিজুর রহমান, নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি নুরুল ইসলাম, যুবদলের সাবেক কেন্দ্রিয় সদস্য মাহমুদুস সালেহীন, পোরশা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহম্মেদ মোজাম্মেল হক শাহ্ চৌধুরী ও সাবেক সাধারন সম্পাদক লায়ন মাসুদ রানা। অপরদিকে, এ আসনে জামায়াত তাদের প্রার্থী হিসাবে নওগাঁ জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলমকে মনোনয়ন দিলেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে পোরশা উপজেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাবেক তিনজন সভাপতি মাও: আব্দুল হক শাহ্, মাও: মোস্তাফিজুর রহমান, তৈয়ব শাহ্ চৌধুরী এবং জেলা সিনিয়র সদস্য মাও: ওমর আলী সরদার এর নাম শোনা যাচ্ছে। ডাঃ ছালেক চৌধুরী বিগত সময়ে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরে তার নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়ন মূলক কাজ করে ছিলেন। সে হিসেবে তিনি নিশ্চিত বিএনপির মনোনয়ন পেতে আশাবাদী। তারপরেও আসনটিতে নিজ দলীয় একাধীক মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকায় ডাঃ ছালেক চৌধুরীকে কিছুটা হলেও মনোনয়ন পেতে কষ্ঠ সহ্য করতে হবে বলে অনেকে মনে করছেন। তবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি এ আসনে সাংগঠনিক কার্যক্রম ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং বিগত সময়ে তার দলের বিভিন্ন উন্নয়ন মুলক কার্যক্রম প্রচার ও উঠান বৈঠক করছেন বলে জানাগেছে। একইভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন অন্য প্রার্থীরা। এ আসনটিতে বিএনপির একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকায় দলটির কেন্দ্রীয় কমিটি সঠিক সিদ্ধান্ত না নিতে পারলে আভ্যন্তরীন কোন্দলের শিকার হয়ে দলীয় প্রার্থীকে ভোটের রাজনীতিতে চরম মূল্য দিতে হতে পারে বলে স্থানীয় একাধিক শীর্ষ নেতার অভিমত। বর্তমানে কেন্দ্রীয় কমিটির দেয়া বিভিন্ন কর্মসূচী বিভক্ত হয়ে পালন করছে স্থানীয় বিএনপি। তারপরেও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতিমধ্যে গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারনা চালিয়ে গেলেও কেন্দ্র থেকে যাকে মনোনয়ন দেবে তিনিই হবেন এ আসনের প্রার্থী। আর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির একক প্রার্থি কে হবেন এ নিয়ে দলটি কঠিন হিসাব-নিকাশ করতে হবে বলে অনেকে বলছেন। অপরদিকে, জামায়াতের নিবন্ধন ও প্রতীক ফেরৎ পাওয়ায় তাদের ভূমিকা কি হবে এ নিয়ে চলছে জল্পনা কল্পনা। তবে একক প্রার্থী ঘোষনা দিয়ে বসে নেই জামায়াত নেতৃবৃন্দ। নিয়মিত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গণসংযোগ না করলেও বসে নেই তারা। তবে জাতীয়পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ ও এনসিপি অনেকটা নিস্ক্রিয় হলেও নির্বাচন আরও ঘনিয়ে আসলে বুঝা যাবে এলাকায় দলগুলির ভোটের রাজনীতি বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।